আকাশে বিমান, নাফে যুদ্ধজাহাজ: অস্থিরতার মাঝেই সহায়তা গেলো সেন্টমার্টিনে

সংগৃহীত ছবি

আকাশে বিমান, নাফে যুদ্ধজাহাজ: অস্থিরতার মাঝেই সহায়তা গেলো সেন্টমার্টিনে

নিজস্ব প্রতিবেদক

মর্টারশেল ও ভারী গোলার বিকট শব্দে গত বুধবার কেঁপে ওঠে সেন্টমার্টিন। আকাশে যুদ্ধবিমানের টহলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখনও বোঝা যাচ্ছে না গুলি মিয়ানমারের জান্তা, নাকি বিদ্রোহীরা করছে?

সপ্তাহ ধরে ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে দ্বীপটিতে। অনেকে আবার কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আটকে সেন্টমার্টিনে ফিরতে পারছেন না।

পরিবার পরিজনের জন্য কপালে চিন্তার ভাজ।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে মিয়ানমার থেকে তিনবার গুলি করা হয়েছে। আতঙ্কে বন্ধ এ নৌপথ। খাদ্য সংকটের সঙ্গে প্রবাল দ্বীপের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা প্রতিটি মুহূর্ত আতঙ্কে পার করছে।

নাফ নদের সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের কাছে টানা দুই দিন ধরে দেখা মিলছে বড় ধরনের একটি যুদ্ধজাহাজ। আর সেই জাহাজ ও মিয়ানমারের স্থলে ভাগের মধ্যে বুধবার দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত চলছে গোলাগুলি।

এ সময় বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ভেসে আসছে টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকায়। এমন পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড। এমন অবস্থায় দ্বীপবাসীর প্রশ্ন– কী হচ্ছে সেন্টমার্টিনে?

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারাও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। তবে মিয়ানমার অস্বীকার করে বলেছে, তারা গুলি করেনি। কিন্তু গুলি তো হয়েছে।

এদিকে সবশেষ তথ্যানুযায়ী, কক্সবাজার থেকে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে সেন্টমার্টিন যাচ্ছে একটি জাহাজ। জাহাজটি শুক্রবার দুপুরে নুনিয়ার ছড়া বিআইডব্লিওটিএ ঘাট থেকে রওনা হয়। খাদ্যপণ্য হিসেবে জেলা প্রশাসনের ৭৫ টন ভিজিইডি ও ভিজিএফ সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। কোরবানির জন্য ৫টি গরু, ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

এর আগে গতরাতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান জানান, নৌযান বন্ধের কারণে সেন্টমার্টিনে নিত্যপণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। আমরা সেন্টমার্টিনে যাতায়াতে বর্তমান রুটের বিকল্প খোঁজ করছি।

গোলাগুলির বিষয়ে দ্বীপের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ জানান, এখানে তারা বন্দি হয়ে আছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আরেক বাসিন্দা জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীদের সুপারভাইজার জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘কষ্টের কথা কাকে বলব? কোনো কিছু সমাধান হচ্ছে না। সবাই আতঙ্কিত। ’

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আক্তার কামাল বলেন, পূর্বদিকে মিয়ানমারে রাখাইনের মংডুতে হাসসুরাতা ও মেরুল্ল্যা গ্রাম থেকে বুধবার দিনভর ব্যাপক মর্টারশেলের শব্দ পেয়েছেন তারা। এতে বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। এ সময় আকাশে যুদ্ধবিমান এবং সাগরের জলসীমানায় দেখা যায় মিয়ানমারের যুদ্ধজাহাজ। দ্বীপবাসী খুবই আতঙ্কে রয়েছেন। কী হচ্ছে, কিছুই বুঝতে পারছি না।

news24bd.tv/FA

এই রকম আরও টপিক

পাঠকপ্রিয়